Loading...
Larger font
Smaller font
Copy
Print
Contents
  • Results
  • Related
  • Featured
No results found for: "".
  • Weighted Relevancy
  • Content Sequence
  • Relevancy
  • Earliest First
  • Latest First
    Larger font
    Smaller font
    Copy
    Print
    Contents

    ১৪ - সঙ্কটকাল

    “তকালে যে মহান অধ্যক্ষ তােমার জাতির সন্তানদের পক্ষে দাড়াইয়া থাকেন, সেই মীখায়েল উঠিয়া দাঁড়াইবেন, আর এমন সঙ্কটের কাল উপস্থিত হইবে যাহা মানুষ্যজাতির স্থিতিকাল অবধি সেই সময় পর্যন্ত কখনও হয় নাই; কিন্তু তৎকালে তােমার স্বজাতীয় যে কাহারও নাম পুস্তকে লিখিত পাওয়া যাইবে, সে উদ্ধার পাইবে” দানিয়েল ১২:১।GrHBen 177.1

    যখন তৃতীয় দূতের বার্তা প্রচার বন্ধ হয়ে যাবে, তখন অপরাধী পৃথিবী নিবাসিদের পক্ষে অনুগ্রহের মধ্যস্থতা আর থাকবে না । ঈশ্বরের প্রজাগণ তাদের কাজ সম্পন্ন করেছেন। তারা “অন্তীম বর্ষা,” “প্রভুর সম্মুখ হতে তাপশান্তি লাভ করেছেন, এবং তাদের সম্মুখস্থ পরীক্ষাকালের জন্য প্রস্তুত হয়েছেন । স্বর্গে দূতগণ দ্রুত এদিক সেদিক গমনাগমন করেছেন। একজন দূত পৃথিবী থেকে ফিরে এসে বলেছেন তিনি তাঁর কাজ সম্পন্ন করেছেন; জগদ্বাসীদের উপরে শেষ পরীক্ষা চালান হয়েছে; আর যারা ঐশী অনুশাসনের অনুগত প্রমাণিত হয়েছে তারা “জীবন্ত ঈশ্বরের মুদ্রাঙ্কণ লাভ করছেন।” তখন যীশু উধর্বস্থ ধর্মধামে তাঁর মধ্যস্থতার কাজ সম্পন্ন করেন । তিনি তাঁর হাত উত্তোলন করে উচ্চস্বরে বলেন, “সমাপ্ত হইল; আর তখন সমস্ত দূত বাহিনী তাদের মুকুট খুলে রাখলেন, যেমন তিনি ভাবগম্ভীরতা সহকারে এই ঘােষণা দান করেন: “যে অধর্মচারী, সে ইহার পরেও অধর্মাচরণ করুক; এবং যে কলুষিত, সে ইহার পরেও কলুষিত হউক; এবং যে ধাৰ্মিক, সে ইহার পরেও ধর্মাচারণ করুক; এবং যে পবিত্র, সে ইহার পরেও পবিত্রত হউক ।” প্রকাশিত ২২:১১। জীবন অথবা মৃত্যুর উদ্দেশে প্রতিটি বিচার্য বিষয়ের মিমাংসা করা হয়েছে । খ্রীষ্ট তাঁর প্রজাদের নিমিত্ত প্রায়শ্চিত্ত করেছেন এবং তাদের পাপ সকল মুছে ফেলেছেন। তাঁর প্রজাদের সংখ্যা আকাশ মণ্ডলের অধঃস্থিত রাজ্যে মহিমা, পরিত্রাণের উত্তরাধিকার প্রাপ্তদের কাছে দত্ত হবে এবং যীশু “রাজাদের রাজা ও প্রভুদের প্রভু” হিসাবে রাজত্ব করবেন ।GrHBen 177.2

    যখন তিনি মন্দির পরিত্যাগ করলেন, তখন অন্ধকার পৃথিবী নিবাসীদের আচ্ছাদন করবে । ঐ ভয়াবহ কালে মধ্যস্থতাকারী বিহীন ধার্মীকগণের অবশ্যই পবিত্র ঈশ্বরের সাক্ষাতে বাস করতে হবে । অধর্মচারীদের উপরে যে নিয়ন্ত্রণ ছিল তা তুলে নেয়া হয়েছে । এবং অবশিষ্ট সব অনুতাপীলের উপরে, শয়তানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকছে। ঈশ্বরের সহনশীলতার সমাপ্তি ঘটেছে। বিশ্ববাসী তাঁর অনুগ্রহ ও দয়া প্রত্যাখান করেছে, তাঁর প্রেমকে উপহাস করেছে; এবং তাঁর ব্যবস্থা ঘৃণাভাবে পদদলিত করেছে। অধর্মচারীরা তাদের অনুগ্রহের সীমা অতিম করেছে; অবিরত প্রতিহত করায় ঈশ্বরের আত্মা শেষ পর্যন্ত তাদের উপর থেকে তুলে নেয়া হয়েছে। ঐশ্বরিক অনুগ্রহের দ্বারা আশ্রিত না থাকায় পাপাচারী ব্যক্তির (শয়তানের হাত থেকে তাদের কোন রক্ষা নেই। তখন শয়তান জগত নিবাসীদেবকে এক মহা ও অন্তিম সংকটের অতল গর্ভে নিমজ্জিত করবে । যেমন ঈশ্বরের দূতগণ মানবীয় রাগও ক্রোধের প্রচণ্ড রায়কে মুক্ত করে দেবেন, তখন যুদ্ধ-বিগ্রহ, হানাহানির সর্বপ্রকার উপাদান উন্মুক্ত করা হবে । আর তখন পুরাতন যিরূশালেমের উপরে যে ভয়াবহ বিনাশ নেমে এসেছিল, তা থেকে অধিকতর ভয়াবহ বিনাশ সমগ্ৰহ বিশ্বে নেমে আসবে।GrHBen 177.3

    মাত্র একজন দূত সমগ্র মিশরবাসীদের প্রথম-জাত সন্তান বিনাশ করেছিলেন, আর তাতে সমগ্র দেশব্যাপী বিলাপ ও শােক নেমে এসেছিল । লােকদের সংখ্যা গণনা দ্বারা যখন দায়ূদ ঈশ্বরকে রাগান্বিত করেছিলেন, তখন মাত্র একজন দূত ভয়াবহ ধ্বংস সাধনের দ্বারা তাঁর পাপের শাস্তি প্রদান করেছিলেন। ঈশ্বরের আদেশ পেলে পবিত্র দূতগণ সেই একই প্রকার ধ্বংসকারী ক্ষমতা ব্যবহার করবেন । তদ্রুপ তাঁর অনুমতি প্রাপ্ত হলে শয়তানের দূতগণও তাদের ক্ষমতা ব্যবহার করবে । শক্তিশালী বাহিনী প্রস্তুত অবস্থায় আছে; আর সর্বত্র বিনাশ ধংস বিস্তারের জন্য তারা কেবল ঐশী অনুমতির অপেক্ষা করছে।GrHBen 178.1

    যারা ঈশ্বরের আজ্ঞার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, পৃথিবীর উপরে দণ্ডাজ্ঞা আনয়নের জন্য তাদেরকে দোষারােপ করা হচ্ছে, এবং প্রকৃতিতে ভয়াবহ আন্দোলন, বিবাদ, প্রচণ্ডতা, বৈরিতা, এবং মানুষে মানুষে হানাহানি ও রক্তপাত যা পৃথিবীকে অভিশাপে পরিপূর্ণ করেছে তাঁর জন্য তারাই দায়ী । শেষ সতর্কীকরণ বাণীতে যে ক্ষমতা প্রদর্শন করা হয়েছে, তাতে পাপীদেরকে রাগান্বিত করা হয়েছে; বার্তা গ্রহণকারী সকলের উপরে তাদের ক্রোধ প্রজ্বলিত হয়েছে, আর শয়তান অধিকতর তীব্রতার সাথে ঘৃণা-বিদ্বেষ ও নির্যাতনের মনােভাবকে উত্তেজিত করবে ।GrHBen 178.2

    যিহুদী জাতির উপর থেকে যখন শেষ পর্যন্ত ঈশ্বরের উপস্থিতি। প্রত্যাহার করা হয়েছিল তা যাজকগণ ও লােকেরা জানতেন না। যদিও তারা সম্পূর্ণ শয়তানের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন তা সত্ত্বেও যাজকগণ ও লােকেরা সর্বাপেক্ষা ভয়ঙ্কর ও অপ্রীতিকর প্রভাবের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তারা। নিজেদেরকে ঈশ্বরের মনােনীত জাতি বলে বিবেচনা করত। মন্দিরের পরিচর্যা কাজ অব্যাহত থাকা অবস্থায়, অপবিত্র বেদির উপর যজ্ঞবলি উৎসর্গ করা হচিছল, আর ঈশ্বরের প্রিয় পুত্রের রক্তে দোষী সাব্যস্ত লােকের উপরে, প্রতিদিন ঐশী আশীবৰ্চন উচচারিত হত এবং তাঁর পরিচালক ও প্রেরিতদের হত্যার উদ্দেশ্যে অন্বেষণ করত। তদ্রুপভাবে কখন ধর্মধামের অপ্রত্যাহার যােগ্য সিন্ধান্তের কথা ঘােষণা করা হবে এবং চিরতরের জন্য পৃথিবীর ভাগ্য নির্ধারণ করা হবে; তা জগদ্বাসীরা জানবে না। একটি জাতি কর্তৃক ধর্মের আচরণ সকল অব্যাহত থাকবে, যাদের উপর থেকে শেষ পর্যন্ত ঈশ্বরের আত্মা তুলে নেয়া হবে, আর মন্দতা ও পাপ-কাজের অধিপতি ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে উদ্দীপনা সদৃশ ভঙ্গিমায় শয়তানের আবেগ দ্বারা তাঁর ক্ষতিকর সংক্রামিত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে তাদেরকে অনুপ্রাণিত করবে ।GrHBen 178.3

    খ্রীষ্টিয় জগতে যেমন বিশ্রাম দিন দ্বন্দ্বের একটি বিশেষ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর ধর্মীয় ও জাগতিক ক্ষমতাধর শাসক গােষ্ঠী রােববার পালনকে শক্তিশালী করবার জন্য একতা বদ্ধ হয়েছে, অন্যদিকে ক্ষুদ্র একটি দল জনপ্রিয় দাবীকে মেনে নেবার জন্য বারংবার প্রত্যাখান করে আসার। ফলে তাদেরকে সার্বজনীন ঘৃণার বস্তুতে পরিণত করবে। এধরণের একটি দাবী তােলা হবে যে, কতিপয় লােক--যারা মণ্ডলীর একটি বিধি ও দেশের একটি আইনের বিপক্ষ হয়ে দাঁড়াচ্ছে তাদেরকে বরদাস্ত করা উচিত হবে না; সে জন্য গােটা একটা জাতিকে বিভ্রান্ত ও আইন শৃঙ্খলাহীনতার মধ্যে ছুড়ে ফেলা অপেক্ষা বরং তাদের ক্লেশ ভােগ করা অধিকতর উত্তম হবে। একই ধরণের একটি বিতর্ক আঠারশ’ বছর আগে “প্রজাবৃন্দের শাসনকর্তাগণ খ্রীষ্টের বিপক্ষে আনায়ন করেছিল । ধূর্ত কায়ফা লােকদেরকে বললেন, “তােমাদের পক্ষে এটা ভাল, যেন প্রজাগণের জন্য এক ব্যক্তি মরে, আর সমস্ত জাতি বিনষ্ট হয় ।” যােহন ১১:৫০। এটি একটি চূড়ান্ত বিতর্ক হয়ে দেখা দেবে, এবং চতুর্থ আজ্ঞার বিশ্রাম দিন পবিত্ররূপে মান্যকারীদেরকে সর্বসাধারণের সাক্ষাতে দোষীসাব্যস্ত করে সর্বাধিক কঠোর শাস্তি বিধান রেখে অবশেষে একটি আইন জারী করা হবে এবং লােকদেরকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হবে কিছুদিন পর তাদের উপর মৃত্যুদণ্ডাজ্ঞা কার্যকরী করার জন্য । যেমন প্রাচীন বিশ্বে রােমীয় ধর্মাবলম্বীরা করত, তদ্রপ বর্তমান ভ্রান্ত। প্রােটেস্ট্যান্ট ধর্মাবলম্বীগণও তাদের প্রতি একই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যারা ঐশী ধর্মানুশাসনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে।GrHBen 179.1

    তকালে ঈশ্বরের প্রজাবৃন্দদের ভাববাদী কর্তৃক বর্ণিত যাকোবের সঙ্কটকালের দৃশ্যের ক্লেশ, যাতনা ও হতাশার মধ্যে ফেলা হবে। “সদাপ্রভু এই কথা কহেন; আমরা ভয়ের, কম্পনের শব্দ শুনিয়াছি, শান্তির নয়...সকলের মুখ বিষাদে ম্লান কেন দেখিতেছি? হায়! “সেই দিন মহৎ, তাহার তুল্য দিন আর নাই; এ যাকোবের সঙ্কটকাল, কিন্তু ইহা হইতে সে নিস্তার পাইবে।” যিরমিয় ৩০:৫-৭।GrHBen 179.2

    যাকোবের নিদারুণ মানসিক যাতনার রাতে যখন তিনি এষৌর হাত থেকে নিস্তার পাবার জন্য প্রার্থনায় রাতভর মযুদ্ধ করছিলেন (আদি ৩২:২৪-৩০), এর দ্বারা সঙ্কটকালে ঈশ্বরের প্রজাদের অভিজ্ঞতাকে নির্দেশ করা হয়েছে। এষৌর জন্য নির্ধারিত পিত-আশীর্বাদ প্রতারণা অবলম্বনের মাধ্যমে আদায় করা প্রযুক্ত তাঁর ভাইয়ের দেয়া মৃত্যুর হুমকীর বিষয়ে সতর্কবাণী পেয়ে যাকোব তাঁর জীবন রক্ষাকল্পে পলায়ন করলেন । বহু বছর নির্বাসনে থাকার পর ঈশ্বরের নির্দেশক্রমে তাঁর স্বদেশে ফিরে আসবার মানসে তাঁর স্ত্রীগণ ও সন্তানদের সহ, তাঁর পশুপাল ও মেষপাল নিয়ে রওনা দিলেন। নিজ দেশের সীমানায় পৌছানাের পর সংবাদ পেলেন যে এষৌ নিঃসন্দেহে প্রতিশােধ নিতে একদল যােদ্ধা নিয়ে তাঁর দিকে ধেয়ে আসবেন। তিনি মহাভয়ে ভীত হলেন, কেননা আশ্রয়হীন ও প্রতিরােধ বিহীন অবস্থায় যাকোবের দলকে মনে হল যেন হিংসা ও হত্যার জন্য অসহায় শিকার হয়ে। পড়েছে। আর দুশ্চিন্তা ও ভয়ের বােঝার সাথে যুক্ত হয়েছে তাঁর আত্মনিন্দার পােষণকারী কেননা এই বিপদ তাঁর উপরে উপনীত হবার কারণ হচ্ছে তার। নিজস্ব পাপ। তাঁর একমাত্র ভরসা ছিল ঈশ্বরের অনুগ্রহ; তাঁর একমাত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হওয়া আবশ্যক তাঁর প্রার্থনা। তথাপিও তাঁর ভাইয়ের প্রতি যে অন্যায় তিনি করেছেন এবং তাঁর বিপদসমূহ এড়াতে প্রায়শ্চিত্ত সাধক এমন কোন কাজ তিনি বাদ রাখেন নি যা তাঁর পক্ষে করা সম্ভবপর ছিল । যেমন খ্রীষ্টের অনুসারীগণ সঙ্কটকালের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, তাদের উচিত নিজেদেরকে লােকদের সাক্ষাতে সঠিক জ্ঞানে উপস্থাপন করবার সর্বাত্মক চেষ্টা করা যেন, তাদের প্রতিকূল ধারণা ভেঙ্গে দিতে এবং বিবেকের স্বাধীনতার হুমকীদায়ক বিপদকে এড়িয়ে যেতে পারেন ।GrHBen 179.3

    যেন তাঁর দুর্দশা তাঁর পরিবারবর্গ না দেখে, এই জন্য তিনি তাদেরকে দূরে পঠিয়ে দিয়ে যাকোব একাকী ঈশ্বরের সাথে মধ্যস্ততা করতে থেকে গেলেন । তিনি তাঁর পাপ স্বীকার করেন এবং তাঁর বাবার কাছে দেখা ঈশ্বরের নিয়ম, বৈথেলে রাত্রিকালিন দর্শনে ও নির্বাসিত দেশে তাঁর কাছে কৃত তাঁর প্রতিজ্ঞা সমুহের পক্ষ সমর্থন করে অতিশয় বিনম্র ভাবে তিনি তাঁর দয়া ও অনুগ্রহের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্বীকার করেন। তাঁর জীবনে সঙ্কট নেমে এসেছে; সবকিছুই এখন বিপদাপন্ন । অন্ধকারাচ্ছন্ন নির্জন প্রান্তরে তিনি প্রার্থনা করেই চললেন,’ এবং ঈশ্বরের সাক্ষাতে নিজেকে অবনত করলেন । হঠাৎ তাঁর কাঁধে একখানা হাত এসে স্থাপিত হল। তিনি ভাবলেন তাঁর কোন এক শক্র তাঁর প্রাণ নাশের উদ্দেশ্যে এসেছে, আর তাই তিনি তাঁর সর্বশক্তি দিয়ে আক্রমণকারীর বিরুদ্ধে মল্লযুদ্ধ করে চললেন । যেমন ভাের। হয়ে এল তাঁর প্রতিপক্ষ তাঁর অতিমানবিক (super human) বলবান শক্তি দিয়ে (যাকোবের) উরুতে আঘাত করলে যাকোবের মনে হল তিনি পঙ্গু হয়ে গেছেন, আর তখন তিনি অসহায় অবস্থায় তাঁর রহস্যময় প্রতিদ্বন্দ্বির কাঁধের উপরে ভর করে পড়ে গিয়ে কেঁদে কেঁদে হতভাগ্যের ন্যায় মিনতি করতে লাগলেন । কেননা এরই মধ্যে যাকোব বুঝতে পারলেন যে ইনিই সেই নিয়ম স্থিরকারী দূত যার সাথে তিনি এত সময় সংগ্রাম করে আসছিলেন। যদিও পায়ে ভর করে দাঁড়াতে অক্ষম ও ভীষণ ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছেন তথাপিও তিনি তাঁর মূখ্য উদ্দেশ্য ভুলে যান নি বা উদ্যমে বিচ্যুত হন নি। তাঁর পাপের কারণে দীর্ঘক্ষণ যাবৎ হত-বিহ্বল, তত্ত্ব অনুশােচনা ও বিপদ সহ্য করেও তিনি এখন নিশ্চিত হতে চাচ্ছেন যে, তাঁর পাপের ক্ষমা হয়েছে। স্বর্গীয় অতিথি যেন তাকে ত্যাগ করে চলে যাবার উপক্রম, কিন্তু যাকোব তাঁকে না-হারবালার ন্যায় জড়িয়ে ধরে অন্ততঃ একটি আর্শীবাদের জন্য অনুনয় বিনয় করতে থাকলেন । দূত বিনয় করে বললেন, “আমাকে ছাড়, কেননা প্রভাত হইল।” কিন্তু পিতৃকুলপতি বলেন, “আপনি আমাকে আর্শীবাদ না করলে আপনাকে ছাড়িব না।” এখানে কি-ই-না দৃঢ় বিশ্বাস, স্থিরসংকল্প ও অধ্যাবসায় প্রদর্শিত হয়েছে। যদি তিনি স্বগৌরবে, দাম্ভিকতা সহকারে দাবী করতেন, তবে সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিনষ্ট হতেন; কিন্তু তাঁর দাবীটা ছিলনিজ দুর্বলতা স্বীকার ও অযােগ্যতা উপলব্ধি করে নিয়মরক্ষাকারী করুণাময় ঈশ্বরের উপর নির্ভর করে নিশ্চয়তার দাবী ।GrHBen 180.1

    “হাঁ, সে লুতের সহিত যুদ্ধ করিয়া বিজয়ী হইয়াহিল।” হেশেয় ১২:৪। অবনত, অনুতাপ, মন পরিবর্তন ও আত্মসমর্পণের মাধ্যমে এই পাপিষ্ঠ, বিপথগামী, মরণশীল ব্যক্তি স্বর্গের অধিশ্বরের সাথে মল্লযুদ্ধ করেও টিকে থাকতে পেরেছিল । ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাসমূহের উপরে তাঁর নড়বড়ে থাকাকেও তিনি দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ রাখলেন, ফলে অসীম প্রেমময়ের হৃদয় পাপীর মিনতি ও আবদেনকে প্রত্যাখ্যান করতে পারেননি। তাঁর বিজয় লাভের প্রমাণ ও তাঁর আদর্শ অনুকরণের উৎসাহ স্বরূপ তাঁর পাপের স্মারক যে নামটি ছিল তাঁর পরিবর্তে তাঁর বিজয়ের স্মরণার্থে একটি নতুন নাম দত্ত হল । এখানে এই বাস্তবতা প্রতিফলিত হল যে, যাকোব ঈশ্বরের সাথে লড়াই করেও বিজয়লাভ করেছিলেন, সুতারং এর দ্বারা এই নিশ্চয়তা প্রদান করা হল যে, তিনি মানুষের সাথে লড়েও বিজয়ী হবেন । তিনি তখন আর তাঁর রাগান্বিত ভাইয়ের মুখােমুখী হতে ভয় পেলেন না, কারণ সদাপ্রভু তাঁর রক্ষক ছিলেন।GrHBen 181.1

    ঈশ্বরের দূতের সাক্ষাতে শয়তান যাকোবকে দোষারােপ করেছিল, দাবী করেছিল যেন তাঁর পাপ-প্রযুক্ত তাকে বিনষ্ট করা হয় । সে এবাঁকে উলুব্ধ করেছিল যেন তিনি যাকোবের বিরুদ্ধে অগ্রসর হয়; আর রাতভর যখন পিতৃকুলপতি মল্লযুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন তখন শয়তান তাঁর উপরে তাঁর অপরাধবিষয়ক অনুভূতি জোরপূর্বক চাপিয়ে দিতে কঠোর প্রচেষ্টা চালিয়েছে যেন তাকে নিরুৎসাহিত করতে ও ঈশ্বরের সাথে তাঁর যে যােগসূত্র ছিল তাতে ভাঙ্গন ধরাতে পারে। যাকোবকে প্রায় হতাশার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি জানতেন যে, স্বর্গীয় সাহায্য না পেলে তাকে অবশ্যই বিনষ্ট হতে হবে। তিনি তাঁর মহাপাপের ব্যাপারে আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হয়ে আবেদন জানালেন। তাঁর উদ্দেশ্য থেকে তিনি পিছ-পা হলেন না, বরং দূতাকে দৃঢ়ভাবে জড়িয়ে ধরে একাগ্রভাবে তাঁর নিবেদন পেশ করতে থাকলেন, বিলাপ ও আর্তনাদ সহকারে কান্নাকাটি করতে থাকলেন যে পর্যন্ত না তিনি বিজয়ী হলেন ।GrHBen 181.2

    শয়তান যেমন যাকোবের বিরুদ্ধে এষৌকে প্রতিশােধ নেবার জন্য অগ্রসর হতে প্রভাবিত করেছিল, তদ্রুপভাবে সঙ্কটকালে ঈশ্বরের প্রজাদের বিনাশর্থে দুষ্ট ও পাপীদেরকেও সে উত্তেজিত করবে ও উস্কানি দিবে । যেমন সে যাকোবের বিরুদ্ধে দোষারােপ করেছিল, তদ্রুপ সে ঈশ্বরের প্রজাদের বিরুদ্ধেও জোরালােভাবে অভিযােগ উপস্থাপন করবে। সে জগৎব্যাপী সকলকে তাঁর প্রজা বলে দাবী করে, কিন্তু ক্ষুদ্র একটি দল যারা ঈশ্বরের আজ্ঞা পালন করে, তারাই তাঁর এই আধিপত্যের দাবীকে প্রতিহত করছে । যদি সে তাদেরকে এ পৃথিবী থেকে মুছে ফেলতে পারত, তবেই তাঁর বিজয়। পূর্ণ ও নিশ্চিত হত। সে দেখে যে পবিত্র দূতগণ তাদের পাহারা দিচ্ছেন। এবং সে অনুমান করে যে তাদের পাপ সকল ক্ষমা হয়েছে; কিন্তু সে জানে।GrHBen 181.3

    যে, উর্ধহ ধর্মধামে তাদের বিচারও নিস্পত্তি করা হয়েছে। তাদের সে পাপ সকল সম্পর্কে তাঁর নির্ভুল জ্ঞান রয়েছে, আর তাই সে যেমন ঈশ্বরের সদয় দৃষ্টি ও অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হয়ে, তদ্রুপ তাদের সে সকল পাপকার্যকে ঈশ্বরের সাক্ষাতে সর্বাধিক অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করে যেন তারাও তদ্রুপ সাজা পাবার উপযােগী বলে বিবেচিত হয়। সে এধরণের ঘােষণা দেয় যে সদাপ্রভু ন্যায় বিচারের সাথে তাদের পাপ ক্ষমা করতে পারেন না, এবং যদি তাই করেন, তবে তিনি তাকে ও তাঁর দূতগণকে বিনাশ করতে পারেন না । সে তাদেরকে তাঁর শিকার বলে দাবী করে এবং আরও দাবী করে যে, তাদের বিনাশের জন্য যেন তাঁর কাছে তাদেরকে সমর্পণ করা হয় ।GrHBen 182.1

    তাদের পাপপ্রযুক্ত শয়তান যেমন ঈশ্বরের প্রজাদেরকে অভিযুক্ত করে, তদ্রুপ তিনি তাদেরকে পরীক্ষা সিদ্ধ করবার জন্য সদাপ্রভু যথাসাধ্য প্রলােভিত করার জন্য শয়তানকে অনুমতি প্রদান করেন । তাদের দৃঢ় আস্থা, তাদের বিশ্বাস ও বলিষ্ঠতা কঠোরভাবে মূল্যায়ন করা হবে। তাদের অতীতকে পর্যালােচনা করলে তাদের সকল আশা ভরসা ম্লান হয়ে যায়; কেননা তাদের সারা জীবন খুব সামান্য উত্তমতাই তাদের কাছে পরিলক্ষিত হয় । তাদের দুর্বলতা ও অযােগ্যতা সম্পর্কে তারা পুরাে সচেতন । এ ধরণের চিন্তা তাদের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে শয়তান তাদেরকে আতঙ্কিত করতে চেষ্টা করে যে, তাদের জীবনে আর কোনাে আশা নেই; পাপজনিত কলুষতার দাগ আর কখনও মােছা যাবে না। সে এরূপ আশা করে যে এভাবে সে তাদের বিশ্বাস ধ্বংস করতে ও প্রলােভনে ফেলতে সক্ষম হবে এবং ঈশ্বরের প্রতি তাদের আনুগত্য থেকে ফিরাতে পারবে ।GrHBen 182.2

    যদিও ঈশ্বরের প্রজাগণ শত্রুদের দ্বারা বেষ্টিত হবে, তারা তাদের বিনাশার্থে তাদের উপরে ঝুঁকে পড়বে, তথাপিও সত্যের জন্য তারা যে মানসিক যাতনা ভােগ করেছে তাঁর তুলনায় নির্যাতন ততটা ভয়াবহ নয় । যে হয়ত তাদের সবকটি পাপের জন্য তারা অনুতপ্ত হয়নি এবং তাদের মাঝে থেকে যাওয়া কোনাে না কোনাে ভুলের কারণে ত্রাণকর্তার প্রতিজ্ঞার পূর্ণতা উপলব্ধি করতে অসমর্থ হবে: “আমিও তােমাকে সেই পরীক্ষাকাল হইতে রক্ষা করিব, যাহা পৃথিবী-নিবাসীদের পরীক্ষা করিবার জন্য সমস্ত জগতে উপস্থিত হইবে।” প্রকাশিত ৩:১০। যদি তাদের পাপ ক্ষমার নিশ্চয়তা থাকত তাহলে তারা যাতনা বা মৃত্যু থেকেও পিছ-পা হত না, কিন্তু তারা যদি অযােগ্য প্রমাণিত হয় এবং তাদের চারিত্রিক কোনাে দোষের কারণে তাদের জীবন হারায়, তবে ঈশ্বরের পবিত্র নামের অবমাননা হবে ।GrHBen 182.3

    সব জায়গায় তারা বিশ্বাসঘাতকতার ষড়যন্ত্র শােনে এবং বিদ্রোহের সক্রিয় কাজ দেখে; আর তাদের মধ্যে এক তীব্র বাসনা, আত্মার আন্তরিক আকুল আকাখার উদয় হয়, যেন এই দুষ্টদের পাপাচারের সমাপ্তি ঘটে। কিন্তু বিদ্রোহের কাজ স্থগিতের জন্য যখন তারা ঈশ্বরের কাছে আবেদন জানাচ্ছে, ঠিক তখন তারা আত্ম-নিন্দার তীক্ষ অনুভূতি নিয়ে উপলব্ধি করছে। যে, এই মন্দতার জোয়ার প্রতিহত করবার মত কোনাে শক্তি তাদের নেই। তারা অনুভব করে যে যদি শক্তির পর শক্তি প্রয়ােগ করে তারা সর্বদাই তাদের সমস্ত দক্ষতাকে খ্রীষ্টের সেবার কাজে ব্যয় করত; তবে তাদের বিপক্ষে শয়তানের দলবলের ক্ষমতা অনেক কমে যেত।GrHBen 183.1

    তাদের বহুপাপের জন্য তাদের অতীতে মন পরিবর্তন ও অনুতাপকে নির্দেশ করে তারা ঈশ্বরের সাক্ষাতে তাদের আত্মাকে ক্লেশাপন্ন করে এবং ত্রাণকর্তার এই অভিজ্ঞতার সমীপে আবেদন জানায়: “সে বরং আমার পরাক্রমের স্মরণ লউক, আমার সহিত মিলন করুক, আমার সহিত মিলনই করুক।” যিশাইয় ২৭৪৫। তাদের প্রার্থনার উত্তর সঙ্গে সঙ্গে দেয়া হয় না। বলে তাদের বিশ্বাস চলে যায় না। যদিও তারা অতিশয় তীব্রভাবে উদ্বেগ, ভয়াবহ আতঙ্ক ও চরম দুর্দশা ভােগ করে, তথাপিও তারা তাদের মধ্যস্থতার থেকে ক্ষান্ত হয় না। যাকোব যেমন সেই দূতকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করেছেন, তেমনি তাঁর ঈশ্বরের শক্তি দৃঢ়ভাবে ধারণ করে রাখে; তেমন ভাবে তাদের আত্মার উক্তি এরূপ হয়: “আপনি আমাকে আশীবাদ না করিলে আপনাকে ছাড়িব না।”GrHBen 183.2

    ছলনাপূর্বক জ্যেষ্ঠাধিকার হরণ করে যাকোব যে পাপ করেছিলেন, যদি তিনি আগেভাগে সে পাপের জন্য অনুতাপ ও ক্ষমা না চাইতেন তবে অবশ্যই ঈশ্বর তাঁর প্রার্থনা শ্রবণ করতেন না এবং দয়াপরবশ হয়ে তাঁর জীবনও রক্ষা করতেন না। তদ্রুপ সঙ্কটকালে যদি ঈশ্বরের প্রকাশ পায় তবে ভয় ও নিদারুণ মানসিক যাতনাদায়ক নির্যাতন তাদের গ্রাস করবে; হতাশা তাদের বিশ্বাসকে বিছিন্ন করবে, এবং তাদের উদ্ধারের জন্য ঈশ্বরের কাছে আবেদন জানাবার বিশ্বাস তাদের আর থাকবে না। কিন্তু যেহেতু তাদের অনুপযুক্ততা সম্পর্কিত সুগভীর কোনাে গুপ্ত দোষ থাকবে না সুতরাং তাদের পাপ সকল পূর্বেই বিচারের আনা হয়েছে এবং মুছে ফেলা হয়েছে, আর তাই তারা সে সকল পাপ আর স্মরণে আনতে পারে না ।GrHBen 183.3

    শয়তান অনেককে এরূপ বিশ্বাস করতে পরিচালিত করবে যে, জীবনের ছােট বিষয়ে তারা অবিশ্বস্ত হলেও ঈশ্বর তা উপেক্ষা করবেন; কিন্তু সদাপ্রভু যাকোবের সাথে তাঁর আচরণে দেখান যে কোনােক্রমেই তিনি মন্দকে ছাড় দেবেন না বা সহ্য করবেন না। যারা অজুহাত খোঁজার চেষ্টা করে অথবা তাদের পাপকে গােপন করে এবং তাদের অস্বীকৃতি ও অমােচিত পাপ স্বর্গীয় পুত্রকে লিপিবদ্ধ থাকতে অনুমতি প্রদান করে, তারা সকলে শয়তান কর্তৃক বিজিত হবে। যারা তাদের পেশায় অধিকতর উন্নত এবং যে পদে অধিষ্ঠিত তাতে অধিকতর সম্মানিত। ঈশ্বরের দৃষ্টিতে তাদের গতি অধিকতর শােচনীয় ও যাতনাদায়ক এবং তাদের পক্ষে তাদের মহান বিপদের বিজয় অধিকতর নিশ্চিত। ঈশ্বরের দিনের জন্য প্রস্তুত হতে যারা বিলম্ব করে, তারা সঙ্কটকালে কিংবা পরবর্তী কোন কালেও প্রস্তুতি লাভ করতে সক্ষম হবে না । সকলের এ প্রকার অবস্থাই হবে আশাবিহীন ।GrHBen 183.4

    তথাকথিত খ্রীষ্টীয়ানগণ যারা অপ্রস্তুত অবস্থায় শেষ ভয়াবহ যাতনার জ্বালাদায়ী বাক্যসহকারে তাদের পাপ স্বীকার করতে উপস্থিত হবে, তখন অধর্মাচারী পাপীরা তাদের দুর্ভাগ্য দেখে উল্লাসে অট্টহাসি দেবে। এই সকল পাপ স্বীকারের বৈশিষ্ট্য ঠিক এষৌ ও যিহূদার স্বভাবসুলভ। তারা তদ্রুপ, যারা আজ্ঞা লঙ্ঘনের ফল দেখে বিলাপ করে কিন্তু তাঁর অপরাধ উপলব্ধি করে কাদে না, তারা পাপের জন্য প্রকৃত মর্মবেদনা অনুভব করে না এবং পাপ ও মন্দ কাজকে ঘৃণাভরে ত্যাগও করে না । শাস্তি পাবার ভয়ে তারা তাদের পাপের সত্যতা স্বীকার করে বটে, কিন্তু পুরাতন নিয়মের ফরৌণের মতাে, তাদের উপর থেকে দণ্ডাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে তারা আবারও স্বর্গের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে পুনঃ ফিরে যায়।GrHBen 184.1

    যাকোবের ইতিহাস এমন একটি নিশ্চয়তা যে, যারা প্রতারণার শিকার হয়, প্রলােভিত হয় এবং বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়ে পাপ করে, কিন্তু যদি তারা প্রকৃত অনুতাপ ও মন পরিবর্তনপূর্বক ঈশ্বরের কাছ ফিরে আসে তবে তিনি তাদেরকে দূরে ঠেলে দেন না । সঙ্কটকালে যদিও শয়তান এই শ্রেণীর লােকদের খুঁজে বিনষ্ট করাবার চেষ্টা চালাবে, তখন ঈশ্বর তাদের সান্ত্বনা দিতে ও রক্ষা করতে তাঁর দূতগণকে প্রেরণ করবেন । শয়তানের হঠাৎ আক্রমণগুলাে খুব ভয়াবহ ও চূড়ান্ত লক্ষ্যভেদী, তাঁর প্রতারণাসমূহ মারাত্মক, কিন্তু সদাপ্রভু তাঁর প্রজাদের প্রতি তাঁর দৃষ্টি রাখেন এবং তাঁর কর্ণযুগল তাদের কান্না শুনতে পান। তাদের ক্লেশ ও দুর্দশা অতি ভয়ঙ্কর, কঠিন পরীক্ষার আগুন যেন তাদের গ্রাস করে ফেলবে বলে মনে হয় । কিন্তু বিশুদ্ধকারক আগুন পরীক্ষিত খাটি সােনার ন্যায় তাদেরকে সে পরীক্ষার আগুন থেকে বের করে নিয়ে আসবেন । ভয়াবহ পরীক্ষার এই কালেও তাঁর সন্তানদের প্রতি ঈশ্বরের প্রেম ততটাই প্রবল ও কোমল থাকবে যেমন ছিল তাদের সুখ ও সমৃদ্ধির দিনে; কিন্তু পরীক্ষার এই ভয়াবহ আগুনের মধ্যে তাদেরকে রাখার প্রয়ােজন আছে, যেন তাদের জাগতিক ভাব পুড়ে নিঃশেষ হয়ে যায়, যেন খ্রীষ্টের প্রতিমূর্তি তাদের মাঝে নিখুঁতভাবে প্রতিফলিত হয়।GrHBen 184.2

    আমাদের সম্মুখে আগত দুঃখ-ক্লেশ ও মানসিক যাতনার কালে এমন বিশ্বাসের প্রয়ােজন হবে যা ক্লান্তি, বিলম্ব ও ক্ষুধা সহ্য করতে পারবে— এমন বিশ্বাস যা ভয়াবহভাবে পরীক্ষিত হলেও দুর্বল হবে না। ওই সময়ের জন্য প্রস্তুত হতে সকলের জন্যই পরীক্ষা কাল মঞ্জুর করা হয়েছে । যাকোব জয়ী হয়েছিলেন, কারণ তিনি ছিলেন নাছােড়বান্দা ও দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। তাঁর বিজয় ছিল আকুতি-মিনতি সহকারে নাছােড়বান্দা প্রার্থনাক্ষমতার এক প্রমাণ। যারা সকলে ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞামালাকে আঁকড়ে ধরে তেমন তিনি ধরে ছিলেন, এবং যদি তাঁর মতাে আন্তরিক ও অধ্যবসায়ী হয়, তবে তারা কৃতকার্য হবে । যারা নিজেকে অস্বীকার করতে, ঈশ্বরের সাক্ষাতে বিলাপ ও মানসিক যাতনা ভােগ করতে, অবিরত প্রার্থনা করতে ও একাগ্রভাবে তাঁর আর্শীবাদ কামনা করতে অনিচ্ছুক হবে, তারা কখনও তা পাবে না। কত সামান্য সংখ্যক লােক অবগত আছে— ঈশ্বরের সাথে। মল্লযুদ্ধ কি! কত অল্পসংখ্যক লােক তাদের বাসনার গভীরতা ও তীব্রতা প্রযুক্ত তাদের আত্মা ঈশ্বরের পিছু লেগে থেকে তাকে ভুলাতে চেষ্টা করেছে, যে পর্যন্ত না তাদের সম্পূর্ণ ক্ষমতা ব্যয় করেছে। বর্ণনার অতীত হতাশার তুফান যখন আবেদনকারী বা মিনতিকারকের উপরে সজোরে আঘাত হানবে, তখন কত অল্পসংখ্যক লােকেরা অবিচল বিশ্বাসে ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাসমূহে। দৃঢ়ভাবে আসক্ত থাকবে ।GrHBen 184.3

    যারা এখন বিশ্বাস অনুশীলন করে বটে, তবে অল্প তারা শয়তানের প্রবঞ্চনামূলক ও বিবেক-বুদ্ধিকে তাদের জোরপূর্বক বাধ্য করবার নতুন জারিকৃত ক্ষমতার অধীনস্থ হয়ে পড়বার সর্বাধিক বিপদের ঝুঁকি রয়েছে । আর এমনকি যদিও তারা সে পরীক্ষা সহ্যও করে তবে সঙ্কটকালে তাঁর পরম দুর্দশা ও নিদারুণ মানসিক ও দৈহিক যাতনার অতল গর্ভে ডুবে যাবে, কেননা তারা পূর্বে কখনও ঈশ্বরে নির্ভর করাকে অভ্যাসে পরিণত করে নি। বিশ্বাসের যে শিক্ষামালা ইতােপূর্বে তারা শিক্ষা করতে অবহেলা করেছে, এখন নিরুৎসাহের ভয়াবহ চাপের মধ্যে পড়ে তাদেরকে তা শিক্ষা করতে বাধ্য করা হবে ।GrHBen 185.1

    তাঁর প্রতিজ্ঞাসমূহে প্রমাণসাপেক্ষ বিশ্বাস দ্বারা আমাদেরকে ঈশ্বরের সাথে এখন থেকে পরিচয় করিয়ে দেয়া উচিত। একাগ্ৰ, আন্তরিক ও সরল প্রতিটি প্রার্থনা দূতগণ লিপিবদ্ধ করেন ঈশ্বরের সাথে কথােপকথন করাকে অবহেলা না করে বরং স্বার্থপর আত্মতুষ্টিকে আমাদের পরিহার করা উচিত । এছাড়া যদি তাঁর অনুমােদন থাকে, তবে ধন-দৌলত, মান-সম্মান, আরামআয়েশ ও বন্ধুত্ব অপেক্ষা অতিশয় দরিদ্রতা ও সর্বাধিক আত্মস্বীকার অনেক বেশি ভালাে। যদি আমরা আমাদের মনকে জাগতিক স্বার্থে নিমগ্ন হতে দিই, তবে প্রভু হয়ত আমাদের মধ্য থেকে সােনাদানা, ঘরবাড়ী বা উর্বরা ভূমিরূপ দেবতাগুলাে অপসারণ করে আমাদের জন্য সুযােগ করে দেবেন।GrHBen 185.2

    যুবক-যুবতীরা পাপে প্রলুব্ধ হতাে না যদি তারা যে কোনাে পথে চলা। থেকে তারা ঈশ্বরের আর্শীবাদ যাচঞা করতে পারত । যে সব বার্তাবাহকগণ গাম্ভীর্যপূর্ণ অন্তিম সতর্কবাণী জগদ্বাসীদের কাছে বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, যদি তারা নিপ্রাণ, উপাসান ও আলস্য সহকারে ঈশ্বরের আর্শীবাদের জন্য প্রার্থনা না করতেন, বরং একাগ্রচিত্তে এবং বিশ্বাসসহকারে যাকোবের ন্যায় প্রার্থনা করতেন, তাবে তারা এমন অনেক স্থানে খুজে পেতেন, যেখানে তারা বলতে পারতেন; “আমি ঈশ্বরকে সম্মুখসম্মুখি হইয়া দেখিলাম, তথাপি আমার প্রাণ বাঁচিল।” আদিপুস্তক ৩২:৩০। তারা অধ্যক্ষরূপে স্বর্গীয় মণ্ডলীর সাথে গণিত হবেন, ঈশ্বরের ও মানুষের সাথে বিজয়ী হবার ক্ষমতা যাদের থাকবে।GrHBen 185.3

    শীঘ্র আমাদের উপরে “সঙ্কটের কাল উপস্থিত হইবে যাহা মনুষ্যের স্থিতিকাল অবধি সেই সময় পর্যন্ত কখনও হয় নাই;” আর আমাদের এমন অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে, যা আমাদের এখন নেই তা অর্জন করতে অনেকে অতিশয় আলস্যবােধ করছেন । সচরাচর ব্যাপারটা এ ধরণের হয় যে অপেক্ষমান সঙ্কট রয়েছে, তাঁর বেলা একথাটি সত্য নয় । সর্বাধিক সুস্পষ্ট বিশদ বিবরণ ও ওই সঙ্কটকালের বিশালতা ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরা সম্ভব নয়। পরীক্ষার সময়ে প্রত্যেক প্রাণীকে নিজ ক্ষমতায় ঈশ্বরের সাক্ষাতে দণ্ডায়মান থাকা আবশ্যক। “অথচ দেশের মধ্যে নােহ, দানিয়েল ও ইয়ােব থাকে, প্রভু সদাপ্রভু এই কথা কহেন, আমার জীবনের দিব্য, তাহারাও পুত্র কিম্বা কন্যাকে উদ্ধার করিতে পারিবে না; ধার্মিকতায় আপন আপন প্রাণমাত্র উদ্ধার করিবে।” যিহিস্কেল ১৪:২০।GrHBen 186.1

    এখন, যখন আমাদের মহান মহাযাজক আমাদের জন্য মহাপ্রায়শ্চিত্ত সাধন করছেন, তখন খ্রীষ্টেতে সিদ্ধ হবার জন্য আমাদের চেষ্টা করা। আবশ্যক। এমনকি একটি চিন্তা দ্বারাও আমাদের ত্রাণকর্তাকে পরীক্ষার ক্ষমতার কাছে নতি স্বীকার করতে আনা যায়নি। মানব অন্তঃকরণে তাঁর স্থান করে নেবার মতাে শয়তান কিছু কিছু বিষয় খুঁজে পায় সেখানে পাপপূর্ণ কিছু কামনা-বাসনা পােষণ করা হয়, যার মাধ্যমে তাঁর পরীক্ষাসমূহ তাদের ক্ষমতা নিশ্চিত করে। কিন্তু খ্রীষ্ট নিজ বিষয়ে বলেন “জগতের অধিপতি আসিতেছে, আর আমাতে তাহার কিছুই নাই” যােহন ১৪:৩০, ৩১। ঈশ্বরপুত্রের মাঝে শয়তান এমন কিছুই পায় নি যার উপর ভিত্তি করে সে বিজয় অর্জন করতে পারত । তিনি তাঁর পিতার আজ্ঞা সকল পালন করেছিলেন এবং তাঁর মাঝে কোনাে পাপ ছিল না যা শয়তান কাজে লাগাতে পারত। সঙ্কটকালে তারাই টিকে থাকতে পারবে যাদের মাঝে এই প্রকার অবস্থা বিরাজমান থাকবে ।GrHBen 186.2

    খ্রীষ্টের প্রায়শ্চিত্ত-সাধক রক্তে বিশ্বাস দ্বারাই আমাদেরকে এই জীবনে পাপ থেকে পৃথক থাকতে হবে। আমাদের অমূল্য ত্রাতা আমাদেরকে তাঁর সাথে যুক্ত হতে তিনি আহ্বান জানান, আমাদের দুর্বলতাকে তার। সবলতার সাথে, আমাদের নির্বুদ্ধিতাকে তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার সাথে, আমাদের অযােগ্যতাকে তাঁর অর্জিত গুণের সাথে সংযুক্ত করতে তিনি আহ্বান জানান । ঈশ্বরের দূরদর্শিতা হলাে এই বিদ্যালয়, যেখান থেকে আমাদেরকে যীশুর মৃদুতা ও নম্রতা শিক্ষা করতে হবে । সদাপ্রভু আমাদের মনােনয়নের জন্য যে পথটি আরামের ও সহজতর বলে মনে হয় সেটি স্থাপন করেন নি, বরং আমাদের জীবনের প্রকৃত লক্ষ্যে পৌঁছাবার পথ স্থির করেছেন । ঐশ্বরিক আদর্শ অনুসারে আমাদের চরিত্রকে উপযােগী করে গড়ে তুলতে হবে যে সকল প্রতিনিধিকে কাজ করবার জন্য স্বর্গে নিয়ােগ দিয়েছেন, তাদের সাথে সহযােগিতা করা নির্ভর করছে আমাদের উপরে । এই কাজকে কেউ অবহেলা বা ভিন্নভাবে বা অন্যথা করতে পারে না, কিন্তু কেউ করলে তাদের আত্মার (প্রাণের) উপরে সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ বিপদ উপস্থিত হবে ।GrHBen 186.3

    প্রেরিত যােহন দর্শনে স্বর্গে এক উচ্চরব শুনতে পেয়েছিলেন, তাতে ঘােষণা করা হচ্ছিল: “পৃথিবীতে ও সমুদ্রের সন্তাপ হইবে; কেননা দিয়াবল তােমাদের নিকটে নামিয়া গিয়াছে; সে অতিশয় রাগান্বিত, সে জানে, তাঁর কাল সংক্ষিপ্ত ।” প্রকাশিত বাক্য ১২:১২। দৃশ্যগুলির ভয়াবহতার কারণে স্বর্গীয় রব উচ্চৈঃস্বরে তা ঘােষণা করল । শয়তানের সময় যেমন সংক্ষিপ্ত হতে থাকবে তাঁর রাগও তেমনই বৃদ্ধি পেতে থাকবে এবং তাঁর প্রতারণা ও বিনাশের কাজ সর্বোচ্চ শীর্ষে উপনীত হবে।GrHBen 187.1

    ভূতদের অদ্ভুত কাজের ক্ষমতার নিদর্শনস্বরূপ আকাশমণ্ডলে অতি দ্রুত বিলক্ষণ অতিপ্রাকৃতিক ধরণের ভয়াবহ দৃশ্যসমূহ প্রকাশ পাবে । দিয়াবলের আত্মাগণ পৃথিবীর রাজগণকে ও সমস্ত জগদ্বাসীদের প্রতারণার জালে আবদ্ধ করাবার জন্য তাদের কাছে ছুটে যাবে এবং শয়তানের সাথে যুক্ত হয়ে স্বর্গের সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর শেষ সংগ্রামে অংশী হতে প্ররােচিত করবে । এই মাধ্যমগুলাে দ্বারা শাসনকর্তাগণ ও প্রজাগণ সমভাবে প্রতারিত হবে। প্রতারকগণ স্বয়ং খ্রীষ্টের রূপ ধরে এবং জগতের মুক্তিদাতারূপে ভজনার দাবীদার হয়ে আবির্ভূত হবে। তারা সুস্থকরণের মতাে অদ্ভুত ও অলৌকিক কাজ সম্পাদন করবে এবং শাস্ত্রের সাক্ষ্য বিরোধী দর্শন ও প্রত্যাশাপ্রাপ্তি স্বর্গ থেকে পেয়েছে বলে স্বীকার করবে ।GrHBen 187.2

    মহাপ্রতারণা নাটকের সেরা কাজ হিসেবে স্বয়ং শয়তান খ্রীষ্টের রূপ ধারণ করবে। তাঁর প্রত্যাশাসমূহের পূর্ণতা লাভে, ত্রাণকর্তার আগমনের অপেক্ষা করতে বলে মণ্ডলী দীর্ঘকাল যাবৎ বলে আসছে। আর তখন মহাপ্রতারক এমনভাবে আবির্ভূত হবে যেন খ্রীষ্ট এসেছেন। প্রকাশিত বাক্যে যােহন কর্তৃক ঈশ-পুত্রের বর্ণনার অনুকরণে চোখ ধাঁধানাে অতিশয় উজ্জ্বলরূপী জাকালাে ব্যক্তিত্বসদৃশ শয়তান পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে মানুষের মাঝে নিজেকে প্রকাশ করবে। প্রকাশিত ১:১৩-১৫। মহিমাময় উজ্জ্বল জ্যোতি তাকে বেষ্টন করে রেখেছে যা মরণশীল চোখে এযাবৎ পরিলক্ষিত হয়নি । বাতাসে তুরী ধ্বনিত হচ্ছে আর বলেছে: “খ্রীষ্ট এসেছেন।” ভক্তি, শ্রদ্ধাসহকারে লােকেরা তাঁর সাক্ষাতে নিজেদেরকে অবনত করে আর তখন সে তাঁর হাত উঁচু করে তাদের উপরে আশীর্বন উত্সারণ করে, যেমন খ্রীষ্ট তাঁর শিষ্যদের পৃথিবীতে থাকাকালে আর্শীবাদ করেছিলেন। তাঁর কণ্ঠস্বরও মন গলানাে ও ঠিক তদ্রুপ ভুদ্র ও সহানুভুতি মেশানাে সুরে সে কিছু কিছু কথা একই ভাবে দয়া ও অনুগ্রহের পূর্ণ স্বর্গীয় সত্য উপস্থাপন করে, যেমন খ্রীষ্ট করেছিলেন। সে পীড়িতদের সুস্থ করে পরে ধোকা দিয়ে খ্রীষ্টের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অনুকরণ করে সপ্তমদিন বিশ্রামবারের পরিবর্তে রােববার বিশ্রাম দিন করছে বলে দাবী করে এবং সকলকে আদেশ করে যেন তাঁর আশীর্বাদকৃত দিনকে পবিত্র করার জন্য সবাইকে আদেশ করে । কথা ও তাদেরকে যে আলাে ও সত্য দিয়ে পাঠিয়েছে, প্রত্যাখান করেছে এবং জিদ করে সপ্তমদিনকে বিশ্রামদিনরূপে তখনও নিন্দা করেছে। এটি একটি শক্তিশালী ও প্রায় বিশ্বব্যাপী প্রভুত্ব বিস্তারকারী প্রবঞ্চনার বা বিভ্রান্তিকর । যেমন যাদুকর শিমােন কতৃক শমরিয় জাতিকে প্রতারণা করার ন্যায়, অগণিত জনতা ক্ষুদ্র থেকে মহান পর্যন্ত সকলে এই যাদুক্রিয়ায় মােহিত হয় এবং বলে: “এ ব্যক্তি ঈশ্বরের সেই শক্তি, যাহা মহতী নামে আখ্যাত” । প্রেরিত ৮:১০।GrHBen 187.3

    কিন্তু ঈশ্বরের প্রজাগণ ভ্রান্ত পথে পরিচালিত হবে না। এই ভাক্ত খ্রীষ্টের শিক্ষামালা শাস্ত্রানুরূপ নয়। সেই পশু ও তাঁর মূর্তির উপাসকদের উপরে তাঁর আশীর্বচন উচ্চারণ করা হয়, বাইবেল বলে এই শ্রেণীর লােকদের উপরে ঈশ্বরের অমিশ্রিত রােষ পতিত হবে ।GrHBen 188.1

    আর তাছাড়া শয়তানকে খ্রীষ্টের আগমনকে হুবহু নকল করতে দেয়া হবে না। এই প্রতারণার বিষয়ে ত্রাণকর্তা তাঁর প্রজাদের সতর্ক করে দিয়েছেন এবং তাঁর দ্বিতীয় আগমনের প্রকৃতি সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণীও করেছেন। “কেননা ভাক্ত খ্রীষ্টেরা ও ভাক্ত ভাববাদীরা উঠিবে, এবং এমন মহৎ মহৎ চিহ্ন ও অদ্ভুত অদ্ভুত লক্ষণ দেখাইবে যে, যদি হইতে পারে, তবে মনােনীতদিগকেও ভুলাইবে...অতএব লােকে যদি তােমাদিগকে বলে, “দেখ’ তিনি প্রান্তরে, তােমরা বাহিরে যাইও না; দেখ, তিনি অন্তরগারে’, তােমরা বিশ্বাস করিও না। কারণ বিদ্যুৎ যেমন পুর্বদিক হইতে নির্গত হইয়া পশ্চিমদিক পর্যন্ত প্রকাশ পায়, তেমনি মনুষ্যপুত্রের আগমন হইবে । মথি ২৪:২৪-২৭, ৩১; ২৫:৩১; প্রকাশিত ১:৭; ১ থিষলনীকীয় ৪:১৬, ১৭। এই আগমনকে অনুকরণ করার কোনাে সম্ভাবনা নেই। এটি বিশ্বব্যাপী সকলে জানবে এবং গােটা বিশ্ববাসী এটি প্রত্যক্ষ করবে ।GrHBen 188.2

    যারা শাস্ত্রের অধ্যবসায়ী ও জ্ঞানপিপাসু এবং যারা সত্যের প্রেম লাভ করেছে কেবল তারাই পারবে প্রতারণা ও ভ্রান্তি থেকে রক্ষা পেতে, যে প্রতারণা সমগ্র বিশ্বকে বন্দি করে ফেলবে। তারা বাইবেলের সাক্ষ্য সনাক্ত করতে সক্ষম হবে। সকলের জন্য পরীক্ষার কাল উপস্থিত হবে। পরীক্ষা প্রলােভনের বদল বা পরিবর্তন দ্বারা খাটি খ্রীষ্টিয়ানদের প্রকাশ ঘটবে। ঈশ্বরের প্রজারা কি তাঁর বাক্যের উপরে এতটাই সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত যে, তারা তাদের প্রত্যক্ষ সঙ্কটকালে কি তারা কেবল বাইবেল শুধু বাইবেলেই আসক্ত থাকবে? সম্ভব হলে, শয়তান ঐ দিনে স্থির থাকবার প্রস্তুতি গ্রহণের সুযােগ দেওয়া থেকেও তাদেরকে প্রতিহত করবে। সে তাদের পথে বেড়া সৃষ্টিকারী এমন সব বিষয় এমন ভাবে সাজাবে, জাগতিক ধন-দৌলত দ্বারা বেড়াজালে জড়িয়ে দেবে । ভারী, ক্লান্তিকর ও দুর্বহ বােঝা তাদের উপরে চাপিয়ে দেবে যে তাদের অন্তঃকরণ হয়ত এই জীবনের দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগের দ্বারা অতিমাত্রায় পরিপূর্ণ হয়। ফলে সঙ্কটের সেই কাল তাদের উপরে চোরের মতাে এসে উপস্থিত হবে ।GrHBen 188.3

    অজ্ঞাপালনকারীদের বিরুদ্ধে যেমন খ্রীষ্টিয় সাম্রাজ্যের বিভিন্ন শাসনকর্তাগণ এক আদেশ জারী করে তাদের উপর থেকে সরকারী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তুলে নেবে এবং তাদের বিরােধী পক্ষ যারা তাদের বিনাশ কামনা করে তাদের কাছে অরক্ষিত অবস্থায় ছেড়ে দেয়া হবে, তখন ঈশ্বরের প্রজাগণ নগর ও গ্রাম থেকে পলায়ন করবে এবং যে সমস্ত দল সর্বাপেক্ষা পতিত, ধ্বংসপ্রাপ্ত নির্জনস্থানে বাস করত তাদের সাথে মিলিত হবে । অনেকে দুর্গম পর্বতে তাদের সুরক্ষিত আশ্রয় দূর্গ খুঁজে নেবে। পিড়মণ্ট উপত্যকার খ্রীষ্টিয়ানদের মতাে, তারা পৃথিবীর উচ্চস্থলকে তাদের আশ্রয় স্থান করবে গুহায় ধর্মধাম তৈরী করবে এবং “শৈলগণের দুরাক্রম স্থান তাহার দুর্গম্বরূপ হইবে।” (যিশাইয় ৩৩:১৬)। এর জন্য তারা ঈশ্বরের ধন্যবাদ করবে । কিন্তু সকল জাতির ও সকল শ্রেণীর মধ্য থেকে অনেকে ছােট-বড়, ধনী-গরীব, কালাে-সাদা নির্বিশেষে অন্যায় ও নিষ্ঠুরভাবে বন্দিদশায় নিক্ষিপ্ত হবে। ঈশ্বরের প্রিয়পাত্রগণ আবদ্ধ হবে, দৃশ্যতঃ কাউকে কাউকে অন্ধকারময় ও জঘন্য পরিবেশে ভূগর্ভস্থ বন্দিশালায় অনাহারে মরার জন্য ফেলে দেয়া হবে। তাদের আর্তনাদ শােনবার মতাে কোনাে মানুষের কান খােলা নেই; তাদেরকে হাত বাড়িয়ে সাহায্য করবার মতাে কোনাে মানুষের হাত প্রস্তুত নেই ।GrHBen 189.1

    এই পরীক্ষা (সঙ্কট) কালে সদাপ্রভু কি তাঁর প্রজাদেরকে ভুলে যাবেন? প্লাবন-পূর্ব পৃথিবীতে যখন ঈশ্বরের বিচার চলছিল তখন কি তিনি বিশ্বস্ত ননাহকে ভুলে গিয়েছিলেন? সমতল তৃণভূমির নগরসমূহ গ্রাস করবার জন্য যখন স্বর্গ থেকে আগুন নেমে এসেছিল তখন কি তিনি লােটকে ভুলে গিয়েছিলেন? মিসরে পুতুল-পূজকদের দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকাকালে কি তিনি যােষেফকে ভুলে গিয়েছিলেন? বাল-দেবতার ভাববাদীগণের ভাগ্যে যা ঘটেছিল তদ্রুপ তাকেও করবে বলে ঈষেবল শপথ করে যে হুমকি দিয়েছিল, তখন কি তিনি এলিয়কে ভুলে গিয়েছিলেন? যিরমিয় যখন অন্ধকারময় নীরস ও গুমােট বন্দিশালায় আবদ্ধ ছিলেন তখন কি তিনি তাকে ভুলে গিয়েছিলেন? জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত তিন সুযােগ্য ব্যক্তিত্বকে কি তিনি ভুলে গিয়েছিলেন? অথবা তিনি কি সিংহের খাদে নিক্ষিপ্ত দানিয়েলকে ভুলে গিয়েছিলেন? GrHBen 189.2

    “সিয়ােন কহিল, সদাপ্রভু আমাকে ত্যাগ করিয়াছেন, প্রভু আমাকে ভুলিয়া গিয়াছেন। স্ত্রীলােক কি আপন স্তন্যপায়ী শিশুকে ভুলিয়া যাইতে পারে? আপন গভজাত বালকের প্রতি কি হে করিবেন না? বরং তাহারা ভুলিয়া যাইতে পারে, তথাপি আমি তােমাকে ভুলিয়া যাইব না । দেখ, আমি আপন হস্তের তালুতে তােমার আকৃতি লিখিয়াছি।” যিশাইয় ৪৯:১৪-১৬। বাহিনীগণের সদাপ্রভু কহেন: “যে ব্যক্তি তােমাদিগকে স্পর্শ করে, সে তাহার চক্ষুর তারা স্পর্শ করে।” সখরিয় ২:৮।GrHBen 189.3

    যদিও শত্রুগণ তাদেরকে কারাগারে নিক্ষেপ করতে পারে, তবুও। কারাপের দেয়াল খ্রীষ্ট ও তাদের আত্মাগণের মাঝের সংযােগ বিচ্ছিন্ন। করতে পারবে না । যিনি তাদের প্রত্যেকটি দূর্বলতা দেখতে পান, যিনি প্রতিটি পরীক্ষা ও প্রলােভনের সাথে সুপরিচিত, তিনি পার্থিব সকল শক্তির ঊর্ধ্বে; স্বর্গীয় শান্তি ও জ্যোতি নিয়ে দূতগণ তাদের নির্জন কারাকক্ষে উপস্থিত হবেন। তাদের জন্য কারাগার হবে রাজপ্রাসাদ কেননা বিশ্বাসে ধনবান ব্যক্তি সেখানে বসতি করে, যেমন- ফিলিপীয় কারাকূপে পৌল ও শীল মধ্যরাতে প্রার্থনা ও প্রশংসাগীত গাইছিলেন, তদ্রুপ তাদের অন্ধকারময় চার দেয়ালের মাঝে স্বর্গীয় আলাে প্রজ্জ্বলিত হবে ।GrHBen 190.1

    ঈশ্বরের বিচার তাদের উপরে এসে পড়বে যারা তাঁর প্রজাদের অত্যাচার ও বিনষ্ট করবার চেষ্টা করে । দুষ্টদের প্রতি তাঁর দীর্ঘসহিষ্ণুতা, আজ্ঞা লঙ্ঘন করতে লােকদের সাহসী করে । কিন্তু এতদসত্ত্বেও তাদের শাস্তি হবে সুনিশ্চিত ও ভয়াবহ কেননা এটি অনেক বিলম্বিত করা হয়েছে। “সদাপ্রভু উঠিবেন, যেমন পরাসীম পৰ্ব্বতে উঠিয়াছিলেন; তিনি ক্রোধ করিবেন, যেমন গিবিয়ােনের তলভূমিতে করিয়াছিলেন; এইরূপে তিনি আপন কার্য, আপন অসম্ভব কার্য সিদ্ধ করিবেন; আপন ব্যাপার, আপন বিজাতীয় ব্যাপার সম্পন্ন করিবেন।” যিশাইয় ২৮:২১। আমাদের দয়ালু ঈশ্বরের কাছে শাস্তি দেবার কাজটিই হল “বিজাতীয় ব্যাপার।” “প্রভু সদাপ্রভু কহেন, আমার জীবনের দিব্য, দুষ্ট লােকদের মরণে আমার সন্তোষ নাই।” যিহিস্কেল ৩৩:১১। সদাপ্রভু “স্নেহশীল ও কৃপাময় ঈশ্বর, ক্রোধে ধীর, এবং দয়াতে ও সত্যে মহান, অপরাধের, অধর্মের ও পাপের ক্ষমাকারী, তথাপি তিনি অবশ্য [পাপের দণ্ড দেন।” যাত্রা ৩৪:৬,৭। “সদাপ্রভু ক্রোধে ধীর ও পরাক্রমে মহান, এবং তিনি অবশ্য [পাপের] দণ্ড দেন।” নহ্ম ১:৩ । ধার্মিকতায় ভয়াবহ বিষয়ের দ্বারা তিনি তাঁর পদদলিত নিয়মের (আজ্ঞার] ক্ষমতা সত্য প্রমাণিত করবেন । আজ্ঞা লঙ্ঘনকারীদের জন্য অপেক্ষমান দণ্ডাজ্ঞার (প্রতিশােধের ভয়াবহতাকে ন্যায়-বিচার কার্যকর করণে সদাপ্রভুর অনিচ্ছা দ্বারা বিচার করা যেতে পারে । যে জাতির প্রতি তিনি দীর্ঘসহিষ্ণু, সে জাতিকে তিনি সে পর্যন্ত সমূলে আঘাত করবেন না যে পর্যন্ত ঈশ্বরের হিসাবের খাতায় তাদের পাপের (অপরাধের মাত্রা পূর্ণ না হবে । অবশেষে তারা দয়া অমিশ্রিতরূপে তাঁর কোপের পানপাত্রে পান করবে ।GrHBen 190.2

    খ্রীষ্ট যখন স্বর্গীয় ধর্মধামে তাঁর মধ্যস্থতার কাজ বন্ধ করে দিবেন, তখন যারা সেই পশু ও তাঁর প্রতিমূর্তির ভজনা করবে ও তাঁর ছাব ধারণ করবে তাদের বিরুদ্ধে অমিশ্রিতরূপে ঈশ্বরের রােষমদিরা পান করবার হুমকী দেয়া আছে (প্রকাশিত ১৪:৯,১০)। যা তাদের উপরে ঢেলে দেয়া হবে । ঈশ্বর মিসর দেশ থেকে ইস্রায়েল জাতিকে উদ্ধারের প্রাক্কালে যেমন মহামারী মিস্ত্রীয়দের উপরে নেমে এসেছিল ঈশ্বরের প্রজাদের উদ্ধারের ক্ষণকাল পূর্বে ঠিক একই প্রকৃতির কিন্তু অধিকতর ভয়াবহ ও ব্যাপক মহামারী বিচারাকারে সমস্ত জগতের উপরে নেমে আসবে। ঐ সকল অত্যন্ত ভীতিকর ক্লেশের বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রকাশিত বাক্যের প্রকাশক যােহন বলেন: “তাহাতে সেই পশুর ছাববিশিষ্ট ও তাহার প্রতিমার ভজনাকারী মনুষ্যলের গাত্রে ব্যথাজনক দুষ্ট ক্ষত জন্মিল।” সমুদ্র “মৃত লােকের রক্তের তুল্য হইল, এবং সমস্ত জীবিত প্রাণী, সমুদ্রচর জীবগণ মরিল।” আর “নদনদী ও জলের উনুই সকল রক্ত হইয়া গেল।” এই বিহিত দণ্ডসমূহ যেমন ভয়াবহ, ঈশ্বরের ন্যায়-বিচারও তদ্রুপ সত্য প্রমাণিত হয়ে দণ্ডায়মান । ঈশ্বরের দূত ঘােষণা করেন; “হে সাধু, তুমি ন্যায়পরায়ণ, কারণ এরূপ বিচারাজ্ঞা করিয়াছ; কেননা উহারা পবিত্রগণের ও ভাববাদীদের রক্তপাত করিয়াছিল; আর তুমি উহাদিগকে পানার্থে রক্ত দিয়াছ; তাহারা ইহার যােগ্য।” প্রকাশিত ১৬:২-৬ । ঈশ্বরের প্রজাদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে যেন তারাই নিজ হস্তে তাদের রক্তপাতজনিত অপরাধ তাদের নিজেদের উপরে চাপিয়েছে। একই প্রকারে খ্রীষ্ট তাঁর সময়ের যিহূদীদেরকে হেবল থেকে শুরু করে সমস্ত পবিত্র লােকদের রক্তপাতের জন্য দোষারােপ করেন; কেননা তারা একই আত্মবিশিষ্ট এবং ভাববাদীদের হত্যাকারী এই লােকদের সাথে একই কাজ করতে চেষ্টা চালাচ্ছে।GrHBen 190.3

    পরবর্তী মহামারীতে [আঘাতে] সূর্যকে ক্ষমতা দত্ত হল, “তাহাতে অগ্নি দ্বারা মনুষ্যদিগকে তাপিত করিবার ক্ষমতা তাহাকে দত্ত হইল ।” প্রকাশিত ৮:৯ পদ। এইরূপে ভাববাদী এই ভয়াবহ সময়ে পৃথিবীর অবস্থা বর্ণনা করেন: “ভূমি শােকান্বিত, কেননা শস্য বিনষ্ট হইয়াছে, ...ক্ষেত্রের সমস্ত বৃক্ষ শুষ্ক হইয়াছে, ...বস্তুতঃ মনুষ্যসন্তানদের মধ্যে আমােদ শুকাইয়া গিয়াছে।” “বীজ সকল আপন আপন ঢেলার নিচে পচিয়া যাইতেছে; গােলা সকল ধ্বংসিত, ...পশুগণ কেমন কোকাইতেছে! বৃষপাল ব্যাকুল হইতেছে, কেননা তাহাদের চরাণীস্থান নাই; ...জলপ্রণালী সকল শুষ্ক হইয়াছে ও অগ্নি প্রান্তরস্থ চরাণী সকল গ্রাস করিয়াছে।” যােয়েল ১:১০-১২, ১৭-২০। “সেই দিন প্রাসাদের গান সকল হাহাকার হইয়া যাইবে, ইহা সদাপ্রভু বলেন; শব অনেক; লােকে সকল স্থানে সেই সকল ফেলিয়া দিয়াছে । চুপ।” আমােষ ৮:৩ ।GrHBen 191.1

    এই আঘাত [মহামারী] সকল বিশ্বের সর্বত্র ব্যাপৃত হবে না অথবা সমগ্র বিশ্ববাসী সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হবে না। তথাপিও সে সকল দুঃখ-ক্লেশ সর্বাধিক ভয়াবহ হবে, যা এ যাবৎ মর্ত্যের কোনাে লােকে অবগত হয়নি। পরীক্ষাকাল বা অনুগ্রহের কাল সমাপ্তির আগে মানবের উপরে যতসব বিচার (ক্লেশ] আসবে, সবই অনুগ্রহ মিশ্রিত থাকবে । খ্রীষ্টের রক্তের মধ্যস্থতায় পাপী তাঁর কৃত পাপের পূর্ণ শাস্তি থেকে রক্ষা পাবে, কিন্তু শেষ-বিচারে অনুগ্রহ অনিশ্রিত অবস্থায় ঈশ্বরের কোপ দুষ্টদের উপরে পতিত হবে ।GrHBen 191.2

    ঐ দিনে অগণিত লােক ঈশ্বরের অনুগ্রহের আশ্রয় কামনা করবে, যা এতদিন তারা অবজ্ঞা করে এসেছে। “প্রভু সদাপ্রভু কহেন, দেখ, এমন দিন আসিতেছে, যে দিনে আমি এই দেশে দুর্ভিক্ষ প্রেরণ করিব; তাহা অন্নের দুর্ভিক্ষ কিংবা জলের পিপাসা নয়, কিন্তু সদাপ্রভুর বাক্য শ্রবণের । লােকেরা টলিঃ,ত টলিতে এক সমৃদ্র অবধি অন্য সমুদ্র পর্যন্ত এবং উত্তর হইতে পূর্ব পর্যন্ত ভ্রমণ করিবে; তাহারা সদাপ্রভুর বাক্যের অন্বেষণে ইতস্ততঃ দৌড়াদৌড়ি করিবে কিন্তু তাহা পাইবে না।” আমােষ ৮:১১, ১২ ।GrHBen 192.1

    ঈশ্বরের প্রজাগণ যাতনা ও ক্লেশমুক্ত থাকবে না; কিন্তু তাড়নাগ্রস্থ ও নিদারুণ যাতনাগ্রস্থ হলে, খাদ্য সঙ্কট ও ক্লেশাপন্ন হলেও তাদের বিনাশের জন্য ত্যাজ্য হবে না। যে ঈশ্বর এলিয়ের তত্ত্ব নিয়েছিলেন তিনি তাঁর কোনাে আত্মত্যাগী সন্তানকে অবহেলা করবেন না। যিনি তাদের মাথার চুল গুণে থাকেন, তিনি তাদের যত্ন নিবেন, এবং দুর্ভিক্ষের কালে তারা পরিতৃপ্ত হবে। যখন দুষ্ট পাপীগণ অনাহারে ও মহামারীতে মারা যাচ্ছে, ঠিক তখন দূতগণ ধার্মিকদের আশ্রয় দিবেন ও তাদের চাহিদা পূরণ করবেন। “যে জন ধার্মিকতার পথে চলে তাঁর জন্য এই প্রতিজ্ঞা রয়েছে “তাহাকে ভক্ষ্য দেওয়া যাইবে, সে নিশ্চয়ই জল পাইবে।” “দুঃখী দরিদ্রগণ জল অন্বেষণ করে কিন্তু জল নাই, তাহাদের জিহ্বা তৃষ্ণাতে শুষ্ক হইয়াছে; আমি সদাপ্রভু তাহাদিগকে উত্তর দিব, আমি ইস্রায়েলের ঈশ্বর তাহাদিগকে ত্যাগ করিব না ।” যিশাইয় ৩৩:১৫, ১৬; ৪১:১৭।GrHBen 192.2

    “যদিও ডুমুর বৃক্ষ পুষ্পিত হইবে না, দ্রাক্ষালতায় ফল ধরিবে না, জিতবৃক্ষ ফলদানে বঞ্চনা করিবে, ও ক্ষেত্রে খাদ্যদ্রব্য উৎপন্ন হইবে না, খােয়াড় হইতে মেষপাল উচ্ছিন্ন হইবে, গােষ্ঠে গােরু থাকিবে না;” তথাপি যারা তাকে ভয় করে তারা “সদাপ্রভুতে আনন্দ করবে এবং তাদের ত্রাণেশ্বরে উল্লাসিত হবে। হবককূক ৩:১৭, ১৮।GrHBen 192.3

    “সদাপ্রভুই তােমার রক্ষক, সদাপ্রভুই তােমার ছায়া, তিনি তােমার দক্ষিণ পার্শ্বে। দিবসে সূর্য তােমাকে আঘাত করিবে না, রাত্রিতে চন্দ্রও করিবে না, সদাপ্রভু তােমাকে সমস্ত অমঙ্গল হইতে রক্ষা করিবেন; তিনি তােমার প্রাণ রক্ষা করিবেন।” “হাঁ, তিনিই তােমাকে ব্যাধের ফাদ হইত, ও সর্বনাশক মারী হইতে রক্ষা করিবেন। তিনি আপন পালখে তােমাকে আবৃত করিবেন, তাহার পক্ষের নীচে তুমি আশ্রয় পাইবে; তাহার সত্য ঢাল ও তনুত্রাণস্বরূপ । তুমি ভীত হইবে না— রাত্রির ত্রাস হইতে, দিবসের উড্ডীয়মান শর হইত, তিমির বিহারী মারী হইত, মধ্যাহ্নের সাংঘাতিক ব্যাধি হইতে। পড়িবে তােমার পার্শ্বে সহস্র জন, তােমার দক্ষিণে দশ সহস্ৰ জন, কিন্তু উহা তােমার নিকটে আসিবে না। তুমি কেবল স্বচক্ষে নিরীক্ষণ করিবে, দুষ্টগণের প্রতিফল দেখিবে । হাঁ, সদাপ্রভু, তুমিই আমার আশ্রয় । তুমি পরাৎপরকে আপনার বাসস্থান করিয়াছ; তােমার কোন বিপদ ঘটিবে না, কোন উৎপাত তােমার তাম্বুর নিকটে আসিবে না।” গীতসংহিতা ১২১:৫-৭; ৯১:৩-১০। GrHBen 192.4

    তবুও লােকদের দৃষ্টিতে মনে হবে যেন, পূর্বের সাক্ষ্যমরদের ন্যায় ঈশ্বরের প্রজারাও খুব শীঘ্র অবশ্যই রক্তের দ্বারা তাদের সাক্ষ্য মুদ্রাঙ্কন করতে যাচ্ছে। স্বয়ং তারা নিজেরাই ভয় পেতে শুরু করেছে, মনে করেছে--হয়ত তাদের শত্রুদের হাতে হত হবার জন্য সদাপ্রভু তাদের ত্যাগ করেছেন। এটি একটি ভীতিপূর্ণ নিদারুণ মানসিক যাতনার কাল । উদ্ধার পাবার জন্য তারা দিবা-রাত্র ঈশ্বরের কাছে ক্রন্দন করে । পাপীরা তখন উল্লাস করে এবং তাদের উপহাস ও টিটকারীর ধ্বনি শােনা যায়: “তােমাদের বিশ্বাস এখন কোথায়? যদি তােমরা ঈশ্বরের লােক হও তবে তিনি এখন কেন তােমাদেরকে আমাদের কাছ থেকে উগ্ধার করেন না?” কিন্তু প্রতীক্ষাকারীগণের স্বরণ আছে যখন যীশু কালভেরীর কুশােপরে মারা যাচ্ছিলেন, তখন প্রধান যাজকেরা ও শাসনকর্তাগণ বিদ্রুপ করে চিৎকার করছিল: “ঐ ব্যক্তি অন্য অন্য লােককে রক্ষা করিত, আপনাকে রক্ষা করিতে পারে না; ও ত ইস্রায়েলের রাজা! এখন ক্রুশ হইতে নামিয়া আইসুক; তাহা হইলে আমরা উহার উপরে বিশ্বাস করিব।” মথি ২৭:৪২, ৪৩। যাকোবের মতাে সকলেই ঈশ্বরের সঙ্গে মল্লযুদ্ধ করছে। তাদের চেহারা তাদের আভ্যন্তরীণ সংগ্রামকে ব্যক্ত করে। প্রত্যেক মুখমণ্ডলে বিবৰ্ণভাব বিরাজ করে। তবুও তারা তাদের একাগ্র আন্তরিক মিনতি ও মধ্যস্থতা করা থেকে ক্ষান্ত হয়নি।GrHBen 193.1

    মানুষ যদি স্বর্গীয় দৃষ্টিতে দেখতে পেত তাহলে তারা দেখত তাদের চতুর্দিকে বেষ্টন করে মহাশক্তিমান দূতদল রাখা হয়েছে, যারা খ্রীষ্টের ধৈর্য্যের বাক্য পালন করেছে। সহানুভূতিশীল কোমলতা সহকারে দূতগণ তাদের দুঃখ-ক্লেশের সাক্ষ্য হয়ে আছেন এবং তাদের মিনতি-প্রার্থনা শ্রবণ করেছেন। সঙ্কট থেকে তাদেরকে টেনে তুলবার জন্য তারা তাদের হুকুমদাতার। নির্দেশের অপেক্ষা করছেন । কিন্তু তাদেরকে আরও কিছুকাল অপেক্ষা করতে হবে। ঈশ্বরের প্রজাদেরকে অবশ্য এই পানপাত্রে পান ও এই বাপ্তিস্ম বাপ্তাইজিত হতে হবে। এই নির্দিষ্ট বিলম্ব তাদের কাছে এতই বেদনাদায়ক, তবুও এটিই তাদের মিনতি ও আবেদনের সর্বাপেক্ষা উত্তম উত্তর । যেমন প্রভুর কাজ সম্পন্ন করবার জন্য পূর্ণ নির্ভরতায় তারা অপেক্ষা করবার জন্য কঠোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তাদের বিশ্বাস, প্রত্যাশা ও ধৈর্যকে অনুশীলন করবার জন্য তারা চালিত হচ্ছে, কেননা তাদের ধর্মীয় অভিজ্ঞতায় তারা ঐসবের অনুশীলনে খুব কম সুযােগই লাভ করেছে । তথাপিও মনােনীতদের স্বার্থে ঐ সঙ্কট কালকে সংক্ষিপ্ত করা হবে । “তবে ঈশ্বর কি আপনার সেই মনােনীতদের পক্ষে অন্যায়ের প্রতিকার করিবেন না, যাহারা দিবারাত্র তাহার কাছে রােদন করে,...আমি তােমাদিগকে বলিতেছি, তিনি শীঘ্রই তাহাদের পক্ষে অন্যায়ের প্রতিকার করিবেন ।” লুক ১৮:৭,৮ । সমাপ্তি মানুষের প্রত্যাশা অপেক্ষাও অধিকতর দ্রুত এসে পড়বে । ঈশ্বরের গােলাঘরে সঞ্চয়ের জন্য গম আঁটি বেঁধে সংগ্রহ করা হবে; আর শ্যামাঘাস আগুনে পােড়াবার জন্য আঁটি হিসাবে বাধা হবে ।GrHBen 193.2

    অর্পিত দায়িত্বে বিশ্বস্ত স্বর্গীয় প্রহরীগণ তাদের চৌকি অব্যাহত রাখেন। যদিও একটি সার্বজনীন আদেশ জারীতে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, সে সময়ের মধ্যে আজ্ঞা পালনকারীদের মেরেও ফেলা হতে পারে। তাদের শত্রুগণ কোনাে কোনাে ব্যাপারে এই হুকুম জারীকে আগে থেকে অনুমান করবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে তাদের জীবননাশের চেষ্টা চালাবে । কিন্তু প্রত্যেক বিশ্বস্ত আত্মাগণের চতুর্দিকে স্থাপিত বলবান রক্ষকদের ভেদ করে কেউই যেতে পারবে না। কেউ কেউ তাঁর শহর ছেড়ে গ্রামে পালাতে গিয়ে আক্রমণের শিকার হয়; কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে উত্তোলিত ভুগ খড়ের ন্যায় ভেঙে শক্তিহীন হয়ে পড়ে যায়। অন্যেরা মানব যােদ্ধাদের আকারে দূতগণ কর্তৃক রক্ষিত হয়।GrHBen 194.1

    সর্বযুগব্যাপী ঈশ্বর তাঁর প্রজাদের দুর্দশা লাঘব ও উদ্ধারকল্পে তাঁর দূতগণের মাধ্যমে কাজ করেছেন। স্বর্গীয় প্রাণীগণ মানুষের উপকার সাধনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। তারা বিদ্যুতের ন্যায় দীপ্তিময় পােশাকে মানবরূপে এসেছেন। দূতগণ ঈশ্বরের লােকদের কাছে মানব বেশে আবির্ভাব করেছেন। তারা দুপুরে এলা বৃক্ষের নীচে বিশ্রাম করেছেন যেন তারা খুব ক্লান্ত। তারা মানুষের ঘরে আতিথেয়তা গ্রহণ করেন। রাত্রিকালীন যায়ীলের পথ প্রদর্শক হিসাবে তারা কাজ করেছেন (তাঁর নিজ হাতে যজ্ঞবেদিতে আগুণ জ্বালিয়ে দিয়েছেন। তারা কারাগারের দ্বার খুলে দিয়ে সদাপ্রভুর দাসদের মুক্ত করেছেন। স্বর্গীয় বর্ম পরিহিত অবস্থায় এসে তারা ত্রাণকর্তার কবরের মুখের পাথর খানা গড়িয়ে সরিয়ে দিলেন।GrHBen 194.2

    মানবরূপে দূতগণ ধার্মিকদের সভাস্থলে প্রায়ই উপস্থিত থাকেন; এবং তারা পাপীদের আসরেও গিয়ে থাকেন, যেমন তারা তাদের কর্মের সাক্ষ্য হবার জন্য সদোমে গিয়েছিলেন যেন, তারা সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেন তারা ঈশ্বরের সহ্যের সীমা অতিক্রম করেছে কিনা। সদাপ্রভু দয়াতে আমােদ করেন; এবং কতিপয় যারা প্রকৃতপক্ষে তাঁর সেবা করে তাদে স্বার্থে তিনি দূর্দশা দমন করেন ও জনতার জন্য প্রশান্তি দীর্ঘায়িত করেন। ঈশ্বরের বিপরীতে পাপীরা খুব কমই উপলব্ধি করে যে, মাত্র কয়েকজন বিশ্বস্ত লােকদের কাছে তাদের নিজ নিজ জীবনের জন্য ঋণী, যাদেরকে তারা উপহাস ও নির্যাতন করতে আনন্দ পায় ।GrHBen 194.3

    যদিও এই জগতের শাসনকর্তাগণ জানেন না, তথাপিও তাদের দরবারে স্বর্গীয় দূতগণ মুখপাত্র হয়েছেন। মানবীয় চোখ তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করেহে; মানব কর্ণ তাদের আবেদন শুনেছে; মানব ওষ্ঠ তাদের প্রস্তাবের বিরােধিতা করেছে এবং তাদের পরামর্শকে উপহাস কন্নো-ই; মানব হস্ত তাদের অপমান ও কু-ব্যবহার করতে ব্যবহৃত হয়েছে। পরামর্শ সভাস্থানে ও বিচারের এজলাসে এই স্বর্গীয় বার্তাবাহকগণ মানব ইতিহাসের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিতি প্রমাণ করেছেন; নির্যাতিতদের পক্ষে তাদের সর্বাপেক্ষা যােগ ও সর্বাধিক বাকপটু নক্ষত্ব অপেক্ষা তারা অধিকতর উত্তম মধ্যস্থতা করতে সক্ষম বলে প্রমাণ করেছেন। তারা উদ্দেশ্যসমূহকে পরাস্ত করেছেন এবং মন্দদের বন্দি করেছেন যা ঈশ্বরের কাজকে ভীষণভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারত এবং তাঁর প্রজাদের জন্য মহা দুঃখ ও ক্লেশ ঘটাতে পারত । সঙ্কটের ও চরম দুর্দশার কালে “সদাপ্রভুর দূত, যাহারা তাহাকে ভয় করে, তাহাদের চারিদিকে শিবির স্থাপন করেন, আর তাহাদিগকে উদ্ধার করেন।” গীতসংহিতা ৩৪:৭।GrHBen 194.4

    আন্তরিক আগ্রহ নিয়ে ঈশ্বরের প্রজাগণ তাদের রাজার আগমনের চিহ্নের অপেক্ষা করছে। যেমন প্রহরীদেরকে সম্বােধন করে জিজ্ঞাস করা হচ্ছে, “প্রহরী, রাত্রি কত?” স্পষ্টস্বরে উওর দেয়া হচ্ছে, “প্রাতঃকাল আসিতেছে, এবং রাত্রিও আসিতেছে।” যিশাইয় ২১:১২। পর্বত শিখরের উপরে ও মেঘের উপরে আলাে মুনু কিরণ দিচ্ছে। শীঘ্র তাঁর প্রতাপ প্রকাশ পাবে । ধার্মিকতার সূর্য প্রায় উদিত। প্রাতঃকাল ও রাত্রি আগতপ্রায়, ধার্মিকদের জন্য চিরস্থায়ী দিন ও পাপীদের জন্য অনন্ত রাত্রি নেমে আসছে।” GrHBen 195.1

    যেমন মল্লযুদ্ধরতগণ ঈশ্বরের সমীপে তাদের আবেদন পেশ করছে, তখন তাদের বিচ্ছেদকারী আবরণ, মনে হচ্ছে অদৃশ্য বিষয়বস্তু থেকে প্রায় তুলে নেয়া হচ্ছে। স্বর্গ অনন্তকালীন দিবসের উদয়ের ন্যায় আলােকিত হচ্ছে, এবং দূতগণের গীতের ন্যায় এই বাক্য সকল, তাদের কর্ণে বাজছে: “তােমাদের আনুগত্যতায় অটল থাক। সাহায্য আসছে।” খ্রীষ্ট, সর্বশক্তিমান বিজয়ী, তিনি তাঁর পরিশ্রান্ত সৈন্যদের জন্য এক অক্ষয় প্রতাপের মুকুট নিয়ে অপেক্ষা করছেন; স্বর্গের আধাখােলা দ্বার থেকে তাঁর রব ভেসে আসছে: “দেখ আমি তােমাদের সঙ্গে আছি । ভীত কি নিরাশ হইও না। তােমাদের সব দুঃখ ক্লেশের সাথে আমি পরিচিত আছি; আমি তােমাদের দুঃখ-কষ্ট বহন করেছি। তােমরা অপরীক্ষিত শত্রুর সাথে লড়াই করছ না । তােমাদের পক্ষে আমি যুদ্ধ করেছি, আর আমার নামে তােমরা বিজয়ী হওয়া থেকেও অধিক কিছু।”GrHBen 195.2

    আমাদের ঠিক প্রয়ােজনের মুহূর্তে আমাদের অমূল্য ত্রাতা সাহায্য প্রেরণ করবেন। সুর্গের পথ তাঁর পদচিহ্নের দ্বারা উৎসর্গীকৃত হয়েছে । প্রতিটি কাটা ঘা যা আমাদের পায়ে বেধে তা তাঁর পায়েও বিধেছে। যে সব কুশ আমাদের বহন করার কথা ছিল, তাঁর সবই তিনি আমাদের পূর্বে বহন করেছেন। শান্তির জন্য আত্মাকে প্রস্তুত করতে সদাপ্রভু সংঘাত আসতে অনুমােদন করেন। সঙ্কটকালে ঈশ্বরের প্রজাদের জন্য একটি অগ্নি পরীক্ষা; কিন্তু এটিই সেই সময় যখন প্রতিটি প্রকৃত বিশ্বাসের উনূষ্টি করতে হবে, এবং যেন বিশ্বাসে তাঁর চতুর্দিকে বেষ্টনকারী প্রতিজ্ঞাত মেঘধনু দেখতে পায় ।GrHBen 195.3

    “সদাপ্রভুর নিস্তারিত লােকেরা ফিরিয়া আসিবে, আনন্দগান পুরঃসর সিয়ােনে আসিবে এবং তাহাদের মস্তকে নিত্যস্থায়ী হর্ষমুকুট থাকিবে; তাহারা আমােদ ও আনন্দ প্রাপ্ত হইবে, এবং খেদ ও আর্তস্বর দূরে পলায়ন করিবে । আমি, আমিই তােমাদের সান্তনাকর্তা। তুমি কে যে, মর্তকে ভয় করিতেছে, সে ত মরিয়া যাইবে; এবং মনুষ্য-সন্তানকে ভয় করিতেছে, সে, তুণের ন্যায় হইয়া পড়িবে; আর তােমার নির্মাতা সদাপ্রভুকে ভুলিয়া গিয়াছ, ...এবং তুমি সমস্ত দিন অবিরত উপদ্রবীর ক্রোধ হেতু ভয় পাইতেছ, যখন সে বিনাশ করিতে প্রস্তুত হইয়াছে? উপদ্রবীর ক্রোধ কোথায়? ন্যুজ বন্দি শীঘ্রই মুক্ত হইবে; সে মরিয়া কূপে নামিয়া যাইবে না, আর তাহার খাদ্যের অভাব হইবে না । আমি ও সদাপ্রভু, তােমার ঈশ্বর, আমি সমুদ্রকে ব্যস্ত করিলে তাহার তরঙ্গ কল্লোলধ্বনি করে; বাহিনীগণের সদাপ্রভু, এই আমার নাম। আর আমি আপন বাক্য তােমার মুখে রাখিলাম, আপন হস্তের ছায়ায়। তােমাকে আচ্ছাদন করিলাম । যিশাইয় ৫১:১১-১৬।GrHBen 195.4

    “অতএব তুমি এই কথা শুন, হে দুঃখিনি, তুমি মত্তা, কিন্তু দ্রাক্ষারসে নয়; তােমার প্রভু সদাপ্রভু, তােমার ঈশ্বর, যিনি আপন প্রজাদের পক্ষবাদী, তিনি এই কথা কহেন, দেখ, আমি মত্ততাজনক পানপাত্র, আমার ক্রোধরূপ বৃহৎ পানপাত্র, তােমার হস্ত হইতে লইলাম, সেই পানপাত্রে তুমি আর পান করিবে না। আর আমি তােমার সেই ক্লেশদাতাদের তাহা সমর্পণ করিব, যাহারা তােমার প্রাণকে বলিয়াছে, ‘হেট হও, আমরা তােমার উপর দিয়া গমন করি, আর তুমি ভূমির ন্যায় ও সড়কের ন্যায় পথিকদের কাছে আপন পৃষ্ঠ পাতিয়া দিয়াছি।” ২১-২৩ পদ।GrHBen 196.1

    যুগের প্রতি দৃষ্টিপাত করে ঈশ্বরের চোখ তাঁর প্রজাদের সঙ্কটের প্রতি নিবদ্ধ হলাে, যখন পৃথিবীর সর্বশক্তি তাদের বিরুদ্ধে সুসজ্জিত হয়ে তাদের উপরে ঝাপিয়ে পড়বে। নির্বাসিত বন্দিদের ন্যায় তারা অনাহার ও প্রচণ্ডতা দ্বারা মৃত্যুর ভয়ের মধ্যে পতিত হবে। কিন্তু সেই পবিত্রতম ব্যক্তি যিনি ইস্রায়েলের সম্মুখে লােহিত সাগরের জল পৃথক করেছিলেন, তিনি তাঁর মহাশক্তি নিয়ে উপস্থিত হবেন এবং তাদের বন্দিদশাকে ফিরিয়ে দিবেন । “তাহারা আমারই হইবে, ইহা বাহিনীগণের সদাপ্রভু কহেন; আমার কাৰ্য করিবার দিনে তাহারা আমার নিজস্ব হইবে; এবং কোন মনুষ্য যেমন আপন সেবাকারী পুত্রের প্রতি মমতা করে, আমি তাহাদের প্রতি তেমনি মমতা করিব।” মালাখি ৩:১৭। সাক্ষ্যমরদের রক্তের ন্যায় খ্রীষ্টের বিশ্বস্ত সাক্ষীদের রক্তপাত করলে তাতে ঈশ্বরের জন্য কোন ফল বয়ে আনবে না। তাদের বিশ্বস্ততা অন্যদের কাছে সত্যে আনয়ন করতে সাক্ষ্য বহন করবে না; কেননা ঈশ্বরের অনুগ্রহের ঢেউ তাদের কঠিন হৃদয়ের উপরে পড়ে পড়ে ফিরে গেছে, তাদের জন্য আর অনুগ্রহের সুযােগ নেই। আর এখন যদি ধার্মিকগণ তাদের শত্রুর হাতে শিকার হয়, তবে তা হবে অন্ধকারের অধিপতির বিজয়। গীতসংহিতাকর বলেন: “কেননা বিপদের দিনে তিনি আপন আশ্রমে আমাকে সঙ্গোপন করিবেন, আপন তাম্বুর অন্তরালে আমাকে লুকাইয়া রাখিবেন।” গীতসংহিতা ২৭:৫। খ্রীষ্ট বলেছেন: “হে আমার জাতি, চল, তােমার অন্তরাগারে প্রবেশ কর, তােমার দ্বার সকল রুদ্ধ কর;” অল্পক্ষণ মাত্র। লুক্কায়িত থাক, যে পর্যন্ত ক্রোধ অতীত না হয় । কেননা দেখ, সদাপ্রভু আপন স্থান হইতে নির্গমন করিতেছেন, পৃথিবী নিবাসীদের অপরাধের প্রতিফল দিবার নিমিত্ত।” যিশাইয় ২৬:২০, ২১। যারা ধৈৰ্য্যসহকারে তাঁর আগমনের অপেক্ষা করছে এবং যাদের নাম জীবন পুস্তকে লেখা আছে, তাদের উদ্ধার হবে মহা গৌরবময় ।GrHBen 196.2

    *****

    Larger font
    Smaller font
    Copy
    Print
    Contents